Mymensingh Medical College Unit

সন্ধানী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ইউনিটmmc

সময় কখনও থেমে থাকেনা- সে বয়ে চলে তার আপন গতিতে। বিশ বছর আগে মানবসেবার মহান আদর্শের যে বীজ বপন করা হয়েছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আজ তার বিশাল বৃক্ষ পরিনত হয়েছে। আর তাই ’সন্ধানী’ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ইউনিটের বর্তমান অবকাঠামোর দিকে তাকিয়ে স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে কিভাবে শুরু হয়েছিল এর পথচলা।

১৯৭৯ সালের, একদিন পঞ্চম বর্ষের রমাদি তার এলাকার এক বিকশাওয়ালার স্ত্রী প্রয়োজনে রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন কয়েকজন তরুন কামরুল হাসান খান (৩য় বর্ষ), মুকুল, বাসেত, বাবুল (৫ম বর্ষ) …..। সেদিন তারা রক্তদান করলেন জীবনের প্রথমবারের মত এবং তখন থেকেই তাদের মাথায় ঢুকলো কিভাবে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংগঠন করা যায়। অন্যদিকে তৎকালিন চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন ছাত্র- শওকত আলী খান, আবু আজহার, ইকবাল আহমেদ চৌধুরী…… এমনিতেই ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান করলেন এবং তারাও ভাবছিলেন একটি সংগঠন গড়ার কথা। ঘটনাক্রমে দুই গ্রুপ একত্রিত হয়ে মনের ভাব প্রকাশ করলেন তৎকালীন সার্জারীর অধ্যাপক ডাঃ এম, এ, ওয়াহেদ এবং ব্লাড ব্যাংকের অধ্যাপক ডাঃ মোশারফ হোসেন। এরপর সকলের মতামত গ্রহনের উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ সভার আহবান করে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় এবং শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর স্বাক্ষর সংগ্রহীত হয়। ১৮ই অক্টোবর’৭৯ তারিখে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হল। এতে একটি আহবায়ক কমিটি এবং একটি সংবিধান প্রনয়ন কমিটি গঠিত হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি ছিল এর নাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ’সন্ধানী’-র উদ্যোগীরা ছিলেন শওকত আলী খানের বন্ধু। তাদের সাথে আলোচনার প্রক্ষিতে এখানেও সন্ধানী নাম রাখার চিন্তাভাবনা করা হয়। তীব্র প্রতিবাদ ওঠে একই নাম রাখার ব্যাপারে। তখন উদ্যোক্তারা অনেকক›েঠ বোঝাতে সক্ষম হলেন এই বলে যে, এটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সন্ধানীর কোন শাখা নয় বা তাদের কোন হস্তক্ষেপ  এতে নেই। যদি পরবর্তীতে সব মেডিকেল কলেজ একই নাম একটি সংগঠন দাঁড় করাতে পারলে সেটি হবে দেশের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সংগঠন। এরপরেও নাম নিয়ে সমস্যা রয়ে গেলো- সন্ধানী নামে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে একটি পুরনো সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিলো। ঐ সংগঠনের কর্মকর্তাদের অনেক বলে কয়ে সন্ধানী কমিটিতে একটি সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদ রাখার শর্তে তাদের সংগঠনের বিলুপ্ত ঘটানো হয়ে। এভাবেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সন্ধানী নামটি প্রতিষ্ঠিত হল। সংবিধান প্রনয়ন কমিটি কর্তৃক প্রনোদিত একটি সুনিয়ন্ত্রিত ৩০ পৃষ্ঠার সংবিধান একমাস কলেজের বোর্ডে ঝুলিয়ে রাখার পর পরবর্তী সাধারণ সভায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত হয়। সন্ধানীকে সংগঠনিক রুপ দেয়ার সাথে সাথে কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত অনুমোদন নেয়া হয়। কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকগন সকলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ’সন্ধানী’ ময়মনসিংহ মেডিকের কলেজ ইউনিটকে সুগঠিত করে তোলেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজর সেদিনের সেই সন্ধানী শুধুমাত্র একজন মুমুর্ষুকে রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্ঠ এবং শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতা এর কাজের ব্যপ্তির ছড়িয়ে দিয়েছে বহুদূর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *